
সংঘাত-সংঘর্ষ মোকাবিলায় হার্ডলাইনে যাচ্ছে সরকার
- আপলোড সময় : ০১-১২-২০২৪ ১১:৩৫:২৬ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ০১-১২-২০২৪ ১১:৩৫:২৬ পূর্বাহ্ন


* সংঘাত ও সংঘর্ষ ঠেকাতে হিমশিম খাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী * অস্থিতিশীলতার শঙ্কা এখনও কাটেনি * গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধির পাশাপাশি সাইবার স্পেসও মনিটরিং করা হচ্ছে * আন্দোলন-বিক্ষোভকে সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জ মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা
রাজধানীসহ সারাদেশে প্রায় প্রতিদিনই সংঘাত ও সংঘর্ষ ঠেকাতে হিমশিম খাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। কৌশলগত কারণে সরকার সংঘাত-সংঘর্ষ মোকাবিলায় নমনীয় নীতিতে চললেও এবার পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে হার্ডলাইনে যাচ্ছে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। সরকার ছাত্রদের বিষয়ে নমনীয় অবস্থানে থাকার ঘোষণা পুনর্ব্যক্ত করলেও অস্থিরতা সৃষ্টির পেছনে কারও ইন্ধন থাকলে কঠোর হস্তে দমনের হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে। তবে চট্টগ্রামের ইসকন নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে গ্রেফতার নিয়ে সৃষ্ট অস্থিতিশীল পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়া শুরু করলেও এখনও শঙ্কা কাটেনি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, ঘটনাটি নিয়ে নানা পক্ষ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা এখনও করে যাচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থায় রয়েছে, যাতে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কেউ বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি করতে না পারে। এজন্য গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধির পাশাপাশি সাইবার স্পেসও মনিটরিং করা হচ্ছে। কেউ যাতে উসকানি দিয়ে পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে না পারে সেজন্য তীক্ষ্ম নজরদারি চলছে।
জানা গেছে, ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতনের তিন দিনের মাথায় ৮ আগস্ট শান্তিতে নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। সরকার গঠনের সপ্তাহখানেক পর থেকেই নানান দাবিতে একের পর এক বিক্ষোভ-আন্দোলন এবং সরকারি প্রতিষ্ঠান ঘেরাওয়ের ঘটনা দেখা গেছে। আন্দোলনকারীরা প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা প্রাঙ্গণে অবস্থানসহ সচিবালয়ের মতো সুরক্ষিত স্থাপনায়ও ঢুকে পড়ে। পরে সরকার বাধ্য হয়ে যমুনা ও সচিবালয় প্রাঙ্গণে ১৪৪ জারি করে।
তবে, আন্দোলন কখনোই পুরোপুরি থামানো যায়নি। কখনও আনসার, কখনও প্যাডেলচালিত রিকশাচালক, কখনও ব্যাটারিচালিত রিকশাচালক, কখনও গার্মেন্ট শ্রমিক, কখনও শিক্ষক, চিকিৎসক-নার্স, কখনও সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ের চাকরিজীবী, কখনও পল্লী বিদ্যুতের কর্মচারী, শিক্ষার্থী-নাট্যকর্মীসহ পেশাজীবীরা, আবার কখনও চাকরিতে বয়স বৃদ্ধির দাবিতে রাস্তায় নেমে পড়েছেন ছাত্ররা। নানা দাবিকে ঘিরে কমবেশি প্রতিদিনই তৈরি হচ্ছে খণ্ড খণ্ড আন্দোলন। এ অবস্থায় সাপ্তাহিক ছুটির দিন বাদে অন্য দিনগুলোতে আন্দোলন যেন রুটিনে পরিণত হয়েছে। কখনও কখনও ছুটির দিনেও রাজপথে নেমেছেন তারা। সরকারের সাড়ে তিন মাসের বেশি মেয়াদে অঙ্গীভূত আনসার, পার্বত্য অঞ্চলে পাহাড়ি-বাঙালি, সাত কলেজের শিক্ষার্থী, সোহরাওয়ার্দী, কবি নজরুল ও মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজসহ পুরান ঢাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের টানা কয়েকদিনের আন্দোলন থামাতে খুবই বেগ পেতে হয়েছে। এসব আন্দোলন ঘিরে কখনও কখনও রাজপথ রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
সরকারকে সবশেষ বড় আন্দোলনের মুখে পড়তে হয়েছে সম্মিলিত সনাতন জাগরণ জোটের মুখপাত্র ও পুণ্ডরীক ধামের অধ্যক্ষ চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে গ্রেফতারের সূত্র ধরে। রাষ্ট্রদ্রোহের মামলায় ইসকনের বহিষ্কৃত নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে ২৫ নভেম্বর ঢাকায় গ্রেফতার করার খবর প্রচারের পরপরই ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রতিবাদ মিছিল শুরু হয়। পরদিন চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণেও ব্যাপক হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওইদিন আদালত প্রাঙ্গণে একজন আইনজীবীকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
এদিকে চিন্ময় কৃষ্ণকে গ্রেফতারের প্রতিবাদ জানিয়ে ভারতের পররাষ্ট্র দফতর বিবৃতি দেয়। অবশ্য বাংলাদেশ সরকারের তরফ থেকে তার পাল্টা জবাবও দেয়া হয়। চিন্ময় কৃষ্ণকে গ্রেফতারের সূত্র ধরে সৃষ্ট সহিংসতা কিছুটা প্রশমিত হলেও গত বৃহস্পতিবার গার্মেন্ট শ্রমিকদের একটি অংশ আশুলিয়া গাজীপুরে সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন করেন। এদিন সচিবালয়ে কর্মচারীরাও বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। এসব আন্দোলন সংগ্রামের বাইরে নতুন সরকার আসার পরপরই মোহাম্মদপুর, উত্তরাসহ দেশের কয়েকটি স্থানে গণডাকাতির ঘটনাও ঘটে। একের পর এক এই আন্দোলন বিক্ষোভকে সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জ বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এ ধরনের অস্থিরতা চলতে থাকলে সরকারের যে কর্মসূচিগুলো রয়েছে সেটা বাস্তবায়নে কিছুটা হলেও বেগ পেতে হবে তারা মনে করেন। তবে, দেশকে সঠিক ট্রাকে তুলতে হলে সংস্কারের বিকল্প নেই বলে অভিমত তাদের। অপরদিকে সরকারের দাবি, মানুষ আকাক্সক্ষা থেকে বিপ্লবোত্তর সরকারের কাছে দীর্ঘদিনের বঞ্চনার কথা প্রকাশ করছে। সরকার তাদের বিষয়ে ইতিবাচক। প্রতিটি দাবি-দাওয়ার কথা শুনে সমাধানের চেষ্টা করছেন।
চলমান আন্দোলন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ২৭ নভেম্বর এক বিবৃতিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, জনগণের অধিকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ইস্যু কাজে লাগিয়ে ষড়যন্ত্রকারীরা দেশে চক্রান্তের জাল বিছিয়েছে। জনগণের মনে অসহিষ্ণুতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। চলমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশের পক্ষের শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। তিনি শক্তহাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। গত কয়েক মাসের সংঘাত, সংঘর্ষ, অস্থিরতা ও গণ-অভ্যুত্থানের মিত্রদের বিভক্তির দায় অন্তর্বর্তী সরকার কোনোভাবেই এড়াতে পারে না বলে মন্তব্য করেন আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) সদস্য সচিব মজিবুর রহমান মঞ্জু। সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, দেশবাসী আশা করেছিল সব জায়গায় ধীরে ধীরে শান্তি ফিরবে। কিন্তু পতিত ফ্যাসিবাদের মদতপুষ্ট ষড়যন্ত্রকারীরা দেশে অরাজকতা তৈরির জন্য বারবার চেষ্টা চালাচ্ছে। সরকার সেই ষড়যন্ত্রের বিষয়ে কোনও আগাম পদক্ষেপ নিতে পারছে না। বাংলাদেশে গত কয়েকদিনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ভয়ানক অবনতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না।
পুলিশ সূত্র জানায়, রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে গ্রেফতারের পর থেকেই তার অনুসারীরা রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে প্রতিবাদ জানাতে শুরু করে। চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে চট্টগ্রামের আদালতে সোপর্দ করার পর বিচারক শুনানি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এরপর থেকেই তার অনুসারীরা মূলত চট্টগ্রামের আদালত প্রাঙ্গণে প্রিজন ভ্যান আটকিয়ে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে কারাগারে নিতে বাধা দেয়। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের সরিয়ে দিতে গেলে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের অনুসারীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার সময় একটি পক্ষ অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলামকে তুলে নিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। আইনজীবীরা এই হত্যাকাণ্ডের জন্য ইসকন সমর্থকদের দায়ী করছেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে ইসকনকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে নিষিদ্ধের দাবিও করা হয়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, সাইফুল ইসলামকে হত্যাকাণ্ডের পর চট্টগ্রামসহ সারা দেশে চাপা উত্তেজনা তৈরি হয়। স্পর্শকাতর এই ঘটনা থেকে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার সৃষ্টি হতে পারে শঙ্কায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট ব্যাপক তৎপরতা শুরু করে। একই সঙ্গে সরকারের পক্ষ থেকেও সব মহলকে শান্ত থাকার জন্য অনুরোধ করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেও কর্মী-সমর্থকদের বিশৃঙ্খলা না করতে অনুরোধ করা হয়।
পুলিশের দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা জানান, ঘটনার পর থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তথা সরকারের সতর্ক তৎপরতার কারণে বড় ধরণের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। কিন্তু এখনও পুরোপুরি শঙ্কা কাটেনি। তৃতীয় পক্ষ এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি ঘোলাটে করার পাঁয়তারা করছে। এ কারণে পুলিশের সকল ইউনিটকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
পুলিশের একটি সূত্র জানায়, পুলিশ সদর দফতর থেকে সারা দেশে ইসকনের মন্দিরগুলোতে কারা অর্থায়ন করছে তার একটি তালিকা করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বিভিন্ন জেলার পুলিশ সুপাররা ইতোমধ্যে সেই তালিকা তৈরির কাজ শুরু করেছে। বিভিন্ন এলাকায় ইসকনকে কারা সংগঠিত করার কাজ করছে তার খোঁজ-খবর নেয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে বাইরে থেকে কোনও অর্থায়ন হয় কিনা তারও অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে।
পুলিশের একটি সূত্র জানায়, ইসকনের অনুসারীদের সমাবেশগুলোতে বিপুল সংখ্যক মানুষের উপস্থিতি নিয়ে কিছুটা চিন্তায় পড়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এসব সমাবেশে সদ্য ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের কোনও যোগসাজশ রয়েছে কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ সদর দফতরের এআইজি (মিডিয়া) ইনামুল হক সাগর বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখার জন্য মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। পেশাদারত্বের সাথে আইনানুগ দায়িত্ব পালনের লক্ষ্যে পুলিশ কাজ করছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম বলেন, দেশে পরিকল্পিতভাবে একটা অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে। বিগত সরকার নানাভাবে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। এই ইন্ধনের পেছনে কারা জড়িত তদন্ত করা হচ্ছে। যারা দায়ী, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। ভবিষ্যতে আর এ ধরনের ঘটনা সহ্য করা হবে না।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ তাদের দাবি নিয়ে যে মাঠে আসছেন, তা মোকাবিলায় সরকারকে সেই অর্থে কোনও বেগ পেতে হচ্ছে না এবং তাদের এই কর্মসূচি সরকারের চলমান সংস্কার কার্যক্রমে কোনও বাধা সৃষ্টি করছে না।
বিপ্লবোত্তর এ সরকারের কাছে মানুষের আকাক্সক্ষা অনেক বেশি উল্লেখ করে তিনি বলেন, গত সাড়ে ১৫ বছরে বঞ্চনা ও লাঞ্ছনার শিকার দেশের আপামর জনগণ কথা বলতে পারেনি। দেশে এ ধরনের গণ-অভ্যুত্থানের পরে মানুষ তাদের অতীতের বঞ্চনার কথা বলবে এটা অস্বাভাবিক নয়। দেশের মানুষ মনে করছে এই সরকার তাদের কথা শুনবে এবং বাস্তবতা হলো সরকার তাদের কথা শুনছে। আমরা সবসময় বলে আসছি, আপনারা এভাবে রাস্তায় না নেমে প্রতিনিধির মাধ্যমে আমাদের সঙ্গে কথা বলেন। যৌক্তিক সব দাবি আমরা সাধ্যমতো পূরণের চেষ্টা করবো।
আলোচনা করে সরকার ইতোমধ্যে অনেক সমস্যার সমাধান করেছে জানিয়ে শফিকুল আলম বলেন, সরকারের সঙ্গে কথা বলার পরে কিন্তু তারা আবার ফিরে যাচ্ছে। তারা রাস্তায় নেমে আন্দোলন করলেও সরকার সহনশীল আচরণ করছে। অতীতের সরকারের মতো রাবার বুলেট, টিয়ারশেল ছুড়ে আন্দোলন দমন করা হচ্ছে না। আমরা এখনও আহ্বান জানাই, কোনও দাবি থাকলে সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টা বা দফতরের সঙ্গে আলোচনা করুন। তিনি বলেন, চলমান এই আন্দোলন সংগ্রাম সরকারের সংস্কার কাজে মেজর কোনও ইম্প্যাক্ট ফেলছে না। স্বাভাবিক গতিতে সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে চলছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা মাহফুজ আলম বলেন, বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে আন্দোলন যে কেউ করতেই পারেন। তবে আমরা বলেছি কারও দাবি-দাওয়া থাকলে নির্দিষ্ট চ্যানেলে জানানোর জন্য। আমরা সংস্কারের প্রতিপক্ষ হিসেবে কাউকেই মনে করছি না। সব রাজনৈতিক দল ও অংশীজনের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতেই সংস্কার প্রক্রিয়া এগোচ্ছে এবং সম্পন্ন হবে। এর ওপর সাম্প্রতিক ঘটনা বা আন্দোলন কোনও প্রভাব ফেলবে না বলে মনে করি আমরা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আইনুল ইসলাম বলেন, আন্দোলনগুলো এক ধরনের অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করছে, এটা অস্বীকার করার কোনও উপায় নেই। এটা সরকারের জন্য একটি চ্যালেঞ্জও বটে। তবে এটাও ঠিক, একটি স্বৈরাচারী জায়গা থেকে বেরিয়ে এসে মানুষ নিজেদের মুক্ত মনে করছে। এজন্য যে যার জায়গা থেকে অধিকারের কথা বলছে। সরকারও তাদের ক্ষেত্রে সহনশীল আচরণ করছে। অতীতে এমনটা হলে তো দমন-পীড়নের মুখে পড়তে হতো।
তিনি আরও বলেন, সরকার যে সংস্কার কাজগুলো হাতে নিয়েছে, সেটা সত্যিই খুবই জরুরি। মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারের মাধ্যমে সরকার একটি জায়গায় রেখে যেতে পারলে পরবর্তী রাজনৈতিক সরকার সেটাকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে পারবে। সংস্কারগুলো হলে রাজনৈতিক সরকার চাইলেও আগের মতো ফ্যাসিস্ট হতে পারবে না। দেশের জনগণের সহায়তায় সরকার যে সংস্কার উদ্যোগ নিয়েছে, সেটা বাস্তবায়ন সম্ভব বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Dainik Janata
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ